ঘর গোছানোর সহজ ১৫টি টিপস
ঘর গোছানোর সহজ টিপস জেনে নিন।একটি পরিষ্কার ঘর শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা ছোট এপার্টমেন্ট থেকে বড় বাসা সব ধরনের ঘরের জন্য উপযোগী ও প্র্যাকটিক্যাল।
যেকোনো শহরের ছোট্ট এপার্টমেন্টে থাকুন, বা গ্রামের বড়সড় বাড়িতে ঘর অগোছালো থাকলে মনও কেমন যেন অস্থির লাগে। কাজ থেকে ফিরে ক্লান্ত শরীরে যখন দেখা যায় জামাকাপড় বিছানায় ছড়ানো, রান্নাঘরের বাসন জমে আছে সিঙ্কে, আর ড্রয়িংরুমের টেবিলে বইখাতা-কাগজপত্রের স্তূপ তখন বিরক্তি লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভালো খবর হল আমি এই আর্টিকেলে আপনাদের জন্য সহজ ১৫টি প্রাক্টিক্যাল টিপস যা আপনি আজ থেকে শুরু করতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃঘর গোছানোর সহজ ১৫টি টিপস
- ঘর কেন অগোছালো হয়ে যায়?
- গোছানো ঘরের উপকারিতা
- প্রতিদিন ১৫ মিনিটের মিনি ক্লিনআপ রুটিন বানান
- একটা জিনিসের একটাই ঘর নিয়ম মেনে চলুন
- অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়মিত বিদায় করুন
- উল্লম্ব জায়গা ভার্টিক্যাল স্পেস কাজে লাগান
- খাটের নিচের জায়গা কাজে লাগান
- রান্নাঘর গোছাতে জোন তৈরি করুন
- বাসার জামা কাপড় ভাঁজ করার সঠিক পদ্ধতি শিখুন
- সন্তানদের ঘর গোছাতে অভ্যস্ত করুন
- কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট গুছিয়ে রাখুন
- যৌথ পরিবারে দায়িত্ব ভাগ করে নিন
- মাল্টিপারপাস ফার্নিচার ব্যবহার করুন
- বাথরুম গোছানো রাখার সহজ উপায়
- মৌসুমি জিনিস আলাদাভাবে সংরক্ষণ করুন
- প্রতিদিনের ব্যবহারের জিনিস হাতের কাছে রাখুন
- মাসে একবার ডিপ ক্লিন ডে রাখুন
- গোছানো ঘর ধরে রাখার কিছু বাড়তি কৌশল
- ঘর গোছানোর পাঠকের শেষ কথা
ঘর কেন অগোছালো হয়ে যায়?
ঘর কেন অগোছালো হয়ে যায় ।গোছানোর কৌশলে যাওয়ার আগে বোঝা দরকার, আসলে কেন ঘর বারবার অগোছালো হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যাটা অলসতা নয়, বরং সিস্টেমের অভাব। প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকলে সেটা যেখানে সেখানে রাখা হয়, আর ধীরে ধীরে সেই ছোট ছোট অগোছালো অভ্যাসই বড় বিশৃঙ্খলার রূপ নেয়।
আমাদের নিজেদের চেষ্টা করা প্রয়োজন ঘর অগোছালো যেন না হয় বেশি। এছাড়া আমাদের দেশের বাসাবাড়িতে সাধারণত জায়গার সীমাবদ্ধতা থাকে, পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি হয়, আর অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জিনিসপত্র জমিয়ে রাখার প্রবণতাও দেখা যায়। এই কারণগুলো বুঝে নিলে সমাধানও সহজ হয়ে যায়।
গোছানো ঘরের উপকারিতা
ঘর গোছানোর উপকারিতা বলে শেষ করানোর মতো না। শুধু দেখতে সুন্দর লাগে বলেই নয়, একটি গোছানো ঘরের বাস্তব উপকারিতাও অনেক। প্রথমত, জিনিসপত্র খুঁজে পেতে সময় নষ্ট হয় না অফিসে যাওয়ার তাড়াহুড়োর মধ্যে চাবি বা মানিব্যাগ খুঁজে বেড়ানোর ঝামেলা থাকে না। , মানসিক চাপ কমে যায় বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে অগোছালো পরিবেশ মস্তিষ্কে বাড়তি স্ট্রেস তৈরি করে।
আরো পড়ুনঃ বাচ্চাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার টোটকা
নিজের বাসার বিশৃঙ্খলা এবং পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য হলেও ঘর গুছিয়ে রাখা উচিত। ঘর পরিষ্কার রাখা সহজ হয়ে যায়, কারণ গোছানো জিনিসের ফাঁকে ধুলাবালি জমার সুযোগ কম থাকে। আর সবশেষে, অতিথি এলে হুট করে সব গোছানোর তাড়াহুড়ো করতে হয় না ঘর সবসময়ই উপস্থাপনযোগ্য থাকে এজন্য গোছানো ঘরের উপকারিতা অনেক।
প্রতিদিন ১৫ মিনিটের "মিনি ক্লিনআপ" রুটিন বানান
প্রতিদিন ১৫ মিনিটে অল্প সহজ মিনি ক্লিনআপ রুটিন বানান। সারা সপ্তাহ ঘর অগোছালো রেখে একদিনে সব পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে তা ক্লান্তিকর এবং বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। এর বদলে প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট বের করে ঘরের একটা নির্দিষ্ট অংশ গুছিয়ে ফেলুন। রাতে ঘুমানোর আগে বা সকালে অফিসে যাওয়ার আগে এই সময়টুকু বের করলে সপ্তাহান্তে বড় কোনো ঝামেলা থাকবে না।
এই রুটিনকে আরও কার্যকর করতে একটা টাইমার ব্যবহার করতে পারেন মোবাইলে ১৫ মিনিটের অ্যালার্ম সেট করে দিন এবং সেই সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব গুছিয়ে ফেলুন। প্রথম কয়েকদিন এটা একটু কষ্টকর মনে হলেও কয়েক সপ্তাহ পর দেখবেন এটা স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে এই ১৫ মিনিটে অংশ নিতে উৎসাহিত করলে কাজটা আরও দ্রুত শেষ হবে এবং সবার মধ্যে দায়িত্ববোধও তৈরি হবে।
"একটা জিনিসের একটাই ঘর" নিয়ম মেনে চলুন
প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দিন। চাবি রাখার জায়গা, চশমা রাখার জায়গা, ওষুধের বাক্স রাখার জায়গা। ব্যবহারের পর জিনিসটি সবসময় সেই নির্দিষ্ট জায়গায় ফিরিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। পরিবারের সবাইকে এই নিয়মে অভ্যস্ত করাতে পারলে ঘর অনেকটাই এমনিতেই গোছানো থাকবে।
এই নিয়ম বাস্তবায়নের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ছোট ছোট লেবেল বা স্টিকার ব্যবহার করা। যেমন, রান্নাঘরের ড্রয়ারে চামচ-কাঁটাচামচ ছোট বাটি প্যাকেট খাবার" এভাবে ভাগ করে লেবেল লাগিয়ে দিলে পরিবারের সবাই এমনকি ছোট বাচ্চারাও সহজে বুঝতে পারবে কোথায় কী রাখতে হবে। একবার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেলে জিনিস হারিয়ে যাওয়া বা খুঁজে না পাওয়ার সমস্যা প্রায় থাকবেই না।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়মিত বিদায় করুন
প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়মিত বাসা থেকে বিদায় করুন কারণ অপ্রয়োজনীয় জিনিস ভাষাতে বেশি বিশৃঙ্খলা করে। বাসাবাড়িতে একটা সাধারণ সমস্যা হলো,পরে কাজে লাগবে, ভেবে অনেক কিছু জমিয়ে রাখা হয়। পুরনো কাপড়, ভাঙা খেলনা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, অব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স এসব মাসে অন্তত একবার বাছাই করে দান করুন বা ফেলে দিন। প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার এই কাজের জন্য বরাদ্দ রাখতে পারেনঅ।
জিনিস বাছাইয়ের সময় একটা সহজ নিয়ম মেনে চলতে পারেন। গত এক বছরে যে জিনিসটা একবারও ব্যবহার করা হয়নি, সেটা রেখে দেওয়ার আসলেই কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে কি না ভেবে দেখুন। পুরনো কাপড় স্থানীয় এতিমখানা বা গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করা যায়, আর অব্যবহৃত আসবাবপত্র সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে সহজেই বিক্রি বা দান করা সম্ভব। এতে ঘরও হালকা হয়, আবার অন্যকেও সাহায্য করা হয়।
উল্লম্ব জায়গা ভার্টিক্যাল স্পেস কাজে লাগান
ভ্যাটিক্যাল স্পেস লাগানোর উপকারিতা। ছোট এপার্টমেন্টের জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর কৌশল মেঝেতে জায়গা না থাকলেও দেয়ালে ওয়াল শেলফ, হুক বা র্যাক লাগিয়ে অনেক জিনিস গুছিয়ে রাখা যায়। রান্নাঘরে হাঁড়ি-পাতিল ঝুলিয়ে রাখার হুক, বাথরুমে দেয়াল র্যাক, বেডরুমে ওয়াল-মাউন্টেড শেলফ এগুলো জায়গা বাঁচায় এবং ঘরকেও সুন্দর দেখায়।
আমরা সবাই বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে পারি না এই জন্য আমাদেরকে বাসার দেওয়াল ও কাজে লাগাতে হয়।। দরজার পেছনে ওভার-দ্য-ডোর হ্যাঙ্গিং অর্গানাইজার লাগিয়ে জুতা, ব্যাগ বা প্রসাধনী রাখা যায়। রান্নাঘরের দেয়ালে ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ লাগিয়ে ছুরি বা ধাতব রান্নার সরঞ্জাম ঝুলিয়ে রাখলে ড্রয়ারের জায়গাও বাঁচে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো খরচও কম, কিন্তু প্রভাব অনেক বড়।
খাটের নিচের জায়গা কাজে লাগান
খাটের নিচে জায়গা কাজে লাগানো সবথেকে ভালো কাজ। আমাদের দেশের বেশিরভাগ বাসায় খাটের নিচে অনেকটা ফাঁকা জায়গা থাকে, যা প্রায়ই অব্যবহৃত থেকে যায়। এখানে স্টোরেজ বক্স বা আন্ডারবেড স্টোরেজ ব্যাগ রেখে চাদর, কম্বল, শীতের কাপড় রাখা যায়। বাজারে সহজলভ্য প্লাস্টিকের আন্ডারবেড বক্স তুলনামূলক সস্তা এবং কার্যকর।
আরো পড়ুনঃ মেয়েদের ঘরে বসে passive income ১০টি সহজ উপায় ১০০% কার্যকরী
খাটের নিচে এমন কিছু রাখতে হবে যেন আপনি ঢুকাতে এবং বের করতে আপনার যেন সুবিধা হয় এবং ওই জায়গাটাও যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। যায়টানলেই বেরিয়ে আসে, ঠেললেই ভেতরে ঢুকে যায়। যাদের বাসায় স্টোর রুম নেই, তাদের জন্য এই জায়গাটা কার্যত একটা বাড়তি স্টোর রুমের কাজ করে। তবে খেয়াল রাখবেন, এখানে ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে জিনিস না রাখাই ভালো, কারণ বাতাস চলাচল কম হওয়ায় সহজেই ছত্রাক বা দুর্গন্ধ হতে পারে।
রান্নাঘর গোছাতে "জোন" তৈরি করুন
রান্নাঘর বসাতে একটা জোন তৈরি করুন আমাদের রান্নাঘর বেশি অগোছালো থাকে। রান্নাঘরকে কয়েকটি জোনে ভাগ করুন রান্নার মশলাপাতি এক জায়গায়, বাসনপত্র আরেক জায়গায়, শুকনো খাবার (চাল, ডাল, আটা) আলাদা জায়গায়। কাচের বা প্লাস্টিকের এয়ারটাইট কনটেইনারে মশলা ও শুকনো খাবার রাখলে শুধু গোছানোই থাকবে না, খাবারও ভালো থাকবে বেশিদিন।
আরেকটি কার্যকর জোন হতে পারে প্রতিদিনের ব্যবহারের জিনিস আর কম ব্যবহৃত জিনিস। যে বাসন বা সরঞ্জাম প্রতিদিন লাগে, সেগুলো হাতের নাগালে সামনের দিকে রাখুন। আর উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত বড় হাঁড়ি-পাতিল বাহ অনেকদিন পরপর লাগে বা বিশেষ থালাবাসন উপরের তাকে বা ক্যাবিনেটের পেছনে রাখুন। এতে রোজকার রান্নার সময় অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে খোঁজাখুঁজি করতে হবে না।
বাসার জামা কাপড় ভাঁজ করার সঠিক পদ্ধতি শিখুন
বাসার জামা কাপড় ভাজ করার সঠিক পদ্ধতি শিখুন। আমাদের জামাকাপড়ই সব থেকে অগোছালো থাকে কারন আমরা অফিসে শেষ করে বা বাইরে থেকে এসে যেখানে পারি সেখানেই ছড়িয়ে দেই আমাদের জামা কাপড়। আলমারিতে জামাকাপড় গাদাগাদি করে রাখলে জায়গাও নষ্ট হয়, খুঁজে পেতেও কষ্ট হয়। কাপড় খাড়াভাবে (ভার্টিক্যালি) ভাঁজ করে রাখলে একসাথে অনেক বেশি কাপড় ধরে এবং প্রতিটি কাপড় সহজে দেখা যায়। শাড়ি, থ্রি-পিস আলাদা আলাদা স্তূপে না রেখে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাগ করে রাখুন।
শাড়ির ক্ষেত্রে একটা আলাদা হ্যাঙ্গার বা শাড়ি-স্ট্যান্ড ব্যবহার করলে ভাঁজ নষ্ট না হয়ে অনেকদিন ভালো থাকে। থ্রি-পিস বা সালোয়ার-কামিজ সেট আকারে ,ওড়না, কামিজ, সালোয়ার একসাথে ভাঁজ করে রাখলে পরার সময় খুঁজতে সময় লাগে না। এছাড়া রঙ বা উপলক্ষ (অফিস পোশাক, ঘরে পরার পোশাক, উৎসবের পোশাক অনুযায়ী ভাগ করে রাখলে সকালে তাড়াহুড়োর মধ্যেও দ্রুত সঠিক পোশাক বেছে নেওয়া যায়।
সন্তানদের ঘর গোছাতে অভ্যস্ত করুন
সন্তানদের ঘর গোছাতে ও অভ্যাস তৈরি করুন আমাদের সন্তান অধিকাংশ এখন ডিজিটাল আসক্ত ফোনেই বেশি সময় পার করে ফেলে এজন্য তাদেরকে নিয়ে ঘর গোছানোর কাজে সহযোগিতা হাত বাড়ান। শিশুদের ছোট থেকেই নিজের খেলনা ও বইপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করানো জরুরি। রঙিন বাক্স বা ঝুড়িতে খেলনা আলাদা আলাদাভাবে রাখতে শেখান যেমন একটাতে গাড়ি, একটাতে পুতুল, একটাতে ব্লক। এতে খেলার পর গুছিয়ে রাখাটা তাদের কাছে খেলার মতোই মজার হয়ে উঠবে।
এই অভ্যাস তৈরিতে একটা মজার পদ্ধতি হলো।,গোছানোর গান, বা টাইমার চ্যালেঞ্জ বাচ্চাকে বলুন পাঁচ মিনিটের মধ্যে সব খেলনা নিজের নিজের ঝুড়িতে ফিরিয়ে রাখতে পারলে ছোট্ট একটা পুরস্কার পাবে। বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নিজের পড়ার টেবিল ও বইয়ের তাক গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব দিলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও স্বনির্ভরতা দুটোই বাড়ে।
কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট গুছিয়ে রাখুন
কাগজপত্র এবং জরুরী ডকুমেন্টস গুছিয়ে রাখুন কাজের সময় বা আর্জেন্টিনা সময় কোন জরুরী ডকুমেন্টস পাওয়া যায় না হাতের কাছে। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, স্কুলের কাগজ, জমির দলিল এসব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র একটি ফাইল ফোল্ডার বা বক্সে ক্যাটাগরি অনুযায়ী রাখুন। ডিজিটাল যুগে চাইলে গুরুত্বপূর্ণ কাগজের ছবি তুলে মোবাইলে বা ক্লাউডেও সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন, যাতে হারিয়ে গেলেও সমস্যা না হয়।
একটি সহজ পদ্ধতি হলো রঙিন ফাইল ফোল্ডার ব্যবহার করা। লাল ফোল্ডারে বিল-বাণিজ্যিক কাগজ, নীল ফোল্ডারে শিক্ষাসংক্রান্ত কাগজ, সবুজ ফোল্ডারে জমি বা সম্পত্তির দলিল। এভাবে রঙ দেখেই বোঝা যায় কোন ফোল্ডারে কী আছে, খোলার প্রয়োজনও পড়ে না। মাসে একবার পুরনো বিল বা মেয়াদ উত্তীর্ণ কাগজপত্র বাছাই করে ফেলে দিলে ফাইলটাও বেশি মোটা হয়ে যায় না।
যৌথ পরিবারে দায়িত্ব ভাগ করে নিন
যৌথ পরিবারে থাকলে আমাদের সমস্যা দে ও একদিন কাজ করবে বা আমি একদিন কাজ করবো এভাবে আমাদের কাজ সব জমে থাকে এবং ঘর অগোছালো থেকে যায়।আমাদের দেশের অনেক পরিবারেই একাধিক সদস্য একসাথে থাকেন। এক্ষেত্রে পুরো বাসা গোছানোর দায়িত্ব একজনের ওপর না দিয়ে সবার মধ্যে ভাগ করে দিন। কে কোন ঘরের দায়িত্বে থাকবে তা ঠিক করে নিলে কাজটা সবার জন্যই সহজ হয়ে যায় এবং কারো ওপর বাড়তি চাপও পড়ে না।
একটা সাপ্তাহিক "দায়িত্ব চার্ট" বানিয়ে ফ্রিজের গায়ে বা দরজার পাশে টাঙিয়ে রাখতে পারেন, যেখানে প্রতিটি সদস্যের নাম ও তার দায়িত্বে থাকা ঘর/কাজ লেখা থাকবে। সপ্তাহ শেষে দায়িত্ব অদল-বদল করলে কারো একঘেয়েমি লাগবে না। আবার সবাই বাসার প্রতিটি অংশ সম্পর্কে সমান দায়িত্বশীল থাকবে। একটা টিমওয়ার্কের মনোভাব তৈরি হয়।
মাল্টিপারপাস ফার্নিচার ব্যবহার করুন
ছোট এপার্টমেন্টের জন্য স্টোরেজসহ খাট, বেঞ্চ বা অটোম্যান দারুণ কার্যকর সমাধান। এসব ফার্নিচারের ভেতরে চাদর-বালিশ বা অন্যান্য জিনিস রাখা যায়, ফলে আলাদা করে স্টোরেজ কেবিনেটের প্রয়োজন কমে যায়। বর্তমানে দেশীয় ফার্নিচার দোকানগুলোতেও এমন অনেক অপশন পাওয়া যায়। আপনার বাসা যদি ছোট হয় ছোট বাসার জন্য সেরা মাল্টিপারপাস ১০টি ফার্নিচার
১. সোফা কাম বেড
দিনে সোফা, রাতে বিছানা ,ছোট বসার ঘরের জন্য আদর্শ।
২. স্টোরেজ অটোমান
পা রাখার টুল এবং ভেতরে জিনিস রাখার জায়গা, দুটোই একসাথে।
৩. এক্সটেন্ডেবল কফি টেবিল
প্রয়োজনে উঁচু করে ডাইনিং বা ওয়ার্ক টেবিল হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।
৪. স্টোরেজ বেড
খাটের নিচে ড্রয়ার বা লিফট-আপ স্টোরেজ, কাপড় রাখার জন্য উপযোগী।
৫. মুরফি বেড (ওয়াল বেড)
দিনে দেয়ালে ভাঁজ হয়ে থাকে, ঘর থাকে খালি ও ব্যবহারযোগ্য।
৬. ফোল্ডেবল ডাইনিং টেবিল
প্রয়োজন না হলে দেয়ালের সাথে ভাঁজ করে রাখা যায়।
৭. ওয়াল-মাউন্টেড ফোল্ডিং ডেস্ক
কাজ শেষে ভাঁজ করে দেয়ালে সেট করা যায়, জায়গা বাঁচে।
৮. বুকশেলফ কাম রুম ডিভাইডার
বই রাখার পাশাপাশি ঘরকে দুই ভাগে ভাগ করার কাজ করে।
৯. শু র্যাক কাম বেঞ্চ
জুতা রাখা ও বসার জায়গা , দরজার কাছে রাখার জন্য পারফেক্ট।
১০. নেস্টেড টেবিল সেট
একটার মধ্যে আরেকটা রাখা যায়, দরকারে আলাদা করে ব্যবহার করা যায়।
বাথরুম গোছানো রাখার সহজ উপায়
বাথরুম যদি গোছানো না থাকে গোসল করতে খুব খারাপ লাগে বাথরুম গোছানোর সহজ উপায়।বাথরুমে দেয়ালে ছোট শেলফ বা ক্যাডি লাগিয়ে শ্যাম্পু, সাবান, ব্রাশ আলাদা আলাদা রাখুন। ভেজা তোয়ালে মেঝেতে না ফেলে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। এতে বাথরুম শুকনো ও পরিষ্কার থাকবে, এবং ছত্রাক জমার সমস্যাও কমবে।
শ্যাম্পু-সাবানের বোতল মেঝেতে না রেখে ঝুলিয়ে রাখা যায়, ফলে বাথরুম পরিষ্কার করাও সহজ হয়। প্রতিটি পরিবার সদস্যের জন্য আলাদা টুথব্রাশ হোল্ডার বা তাক বরাদ্দ রাখলে জিনিস গুলিয়ে ফেলার সমস্যা থাকে না। সপ্তাহে একবার বাথরুমের ড্রয়ার বা ক্যাবিনেট খুলে অব্যবহৃত প্রসাধনী বা মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বের করে ফেলে দেওয়ার অভ্যাসও গড়ে তুলুন।
মৌসুমি জিনিস আলাদাভাবে সংরক্ষণ করুন
মৌসুমী জিনিস আলাদাভাবে সংরক্ষণ করুন কারণ সব সময় আমাদের সব কিছু লাগেনা কারণ গরম ঠান্ডা রিতু আলাদা হয়। শীতের কম্বল, লেপ, গরম কাপড় সারা বছর সামনে রাখার দরকার নেই। এসব ভ্যাকুয়াম ব্যাগে ভরে বা বড় বাক্সে সংরক্ষণ করে আলমারির উপরের তাকে বা স্টোর রুমে রাখুন। এতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জায়গা ফাঁকা থাকবে এবং কাপড়ও ভালো থাকবে।
মৌসুম পরিবর্তনের সময় যেমন শীত শুরুর আগে বা শেষে। এই জিনিসগুলো বের করা বা গুছিয়ে রাখার জন্য একটা নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে নিলে কাজটা প্রতিবার নতুন করে ভাবতে হয় না। নিমপাতা বা ন্যাপথলিন ব্যবহার করলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা কাপড়ে পোকামাকড়ের সমস্যাও কম হয়।
প্রতিদিনের ব্যবহারের জিনিস হাতের কাছে রাখুন
প্রতিদিনের ব্যবহারের জিনিস হাতের কাছে আমরা কোন সময় রাখতে পারি না কাজের ব্যস্ততার জন্য।অফিসের ব্যাগ, চাবি, চার্জার, মানিব্যাগ এই জিনিসগুলো প্রতিদিন খুঁজতে হলে সময় নষ্ট হয় এবং বিরক্তি লাগে। দরজার কাছে একটি ছোট টেবিল বা র্যাক রাখুন যেখানে এসব জিনিস প্রতিদিন নির্দিষ্ট জায়গায় রাখবেন। বের হওয়ার সময় তাড়াহুড়ো কমে যাবে অনেকখানি।
আমাদের প্রতিদিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করা উচিত। ওইখানে একটা ছোট হুক বোর্ডে চাবি ঝুলিয়ে রাখা, একটা ছোট বাটিতে মানিব্যাগ-মোবাইল রাখা, আর দেয়ালে একটা চার্জিং স্টেশন লাগিয়ে রাখলে সকালের তাড়াহুড়োয় জিনিস খুঁজে বেড়াতে হবে না। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য আলাদা ছোট হুক বা ঝুড়ি রাখলে জিনিস কার কোনটা তা নিয়েও বিভ্রান্তি থাকবে না।
মাসে একবার "ডিপ ক্লিন ডে" রাখুন
অন্তত মাসে একবার ডিপ ক্লিন ডে রাখুন। দৈনন্দিন গোছানোর পাশাপাশি মাসে একদিন পুরো বাসার জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ রাখুন। যেদিন আলমারি, স্টোর রুম, ফ্রিজ, রান্নাঘরের ক্যাবিনেট সব ভালোভাবে পরিষ্কার ও গুছিয়ে ফেলবেন। ছুটির দিন বেছে নিয়ে পরিবারের সবাই মিলে এই কাজ করলে সময়ও কম লাগবে, কাজটাও চাপ মনে হবে না।
এই দিনটাকে আরও উপভোগ্য করতে সঙ্গে পছন্দের গান বাজিয়ে নিতে পারেন। বা কাজ শেষে পরিবারের সবাই মিলে ছোট্ট একটা উদযাপন (যেমন প্রিয় খাবার রান্না করা) রাখতে পারেন। এতে "ডিপ ক্লিন ডে" একটা বোঝা মনে না হয়ে বরং মাসের একটা প্রতীক্ষিত পারিবারিক কার্যক্রমে পরিণত হবে। এই দিনে একটা চেকলিস্ট বানিয়ে নিলে কোনো ঘর বা জায়গা বাদ পড়বে না
গোছানো ঘর ধরে রাখার কিছু বাড়তি কৌশল
উপরের ১৫টি টিপস প্রয়োগ করার পাশাপাশি কিছু ছোট অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ঘর গোছানো রাখতে সাহায্য করে। এক জিনিস এলে এক জিনিস যাবে নিয়ম মেনে চলুন নতুন একটা কাপড় কিনলে পুরনো একটা কাপড় বিদায় করে দিন, এতে জিনিসের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কেনাকাটার আগে ভেবে দেখুন জিনিসটা সত্যিই প্রয়োজন কি না।
আমরা অনেক সময় দেখি প্রয়োজন না থাকলেও আমরা শুধু অফার দেখে জামা কাপড় কিনতেছি। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে দিনের এলোমেলো জিনিসগুলো জায়গামতো রেখে দিন এতে পরদিন সকালটা অনেক বেশি সতেজ মনে হবে।
ঘর গোছানোর পাঠকের শেষ কথা
ঘর গোছানো একদিনের কাজ নয় এটি একটি অভ্যাস। উপরের টিপসগুলো একসাথে সব বাস্তবায়ন করার দরকার নেই; ধীরে ধীরে একটা একটা করে অভ্যাসে পরিণত করুন। বাসাবাড়ির বাস্তবতা মাথায় রেখে ছোট ছোট পরিবর্তনই একটি অগোছালো ঘরকে বদলে দিতে পারে শান্তির আশ্রয়ে।মনে রাখবেন, পরিপাটি ঘর শুধু চোখের আরাম দেয় না, মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়।তাই আজ থেকেই শুরু করুন একটা ছোট কোণা দিয়ে হলেও। প্রতিদিন একটু একটু করে এগোলে একসময় দেখবেন পুরো বাসাটাই বদলে গেছে, আর সেই পরিবর্তন ধরে রাখাও তখন আর কঠিন মনে হবে না।
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা আমি আর্টিকেলে বুঝানোর চেষ্টা করেছি একটা বাসা শুধু নিজে থাকার জন্য নয় এখানে আপনার ফ্যামিলির সবাইকে একসাথে বসবাস করা। আমি চেষ্টা করেছি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে আপনারা কিভাবে আপনাদের বাসাটা সুন্দর রাখবেন। যদি আপনার এই আর্টিকেলটি পছন্দ হয় আপনার প্রিয় বন্ধুদের সাথে শেয়ার করব ওয়ান ক্লিকের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ প্রিয় বন্ধুরা সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

.webp)
.webp)
ওয়ান ক্লিকই নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url