বাচ্চাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার টোটকা।

 বাচ্চাদের  পড়াশোনায় মনোযোগী করার টোটকা আমরা সবাই জানতে চাই । আমরা সবাই চাই আমার এই শিশুটি লেখাপড়ার মনোযোগী হোক । প্রায় প্রতিটি বাসাতে একই সমস্যা বাচ্চারা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে চায় না ।

বাচ্চাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার টোটকা

সত্যিই কি আপনার বাচ্চা পড়াশোনায় অমনোযোগী । শিশুদের মন হয় চঞ্চল এক জায়গায় অনেক সময় তাদের মনকে ধরে রাখা খুবই কঠিন । তবে যদি আমরা চাই আমাদের শিশুদের পড়াশোনার মনোযোগী করতে পারি । জোর করে বা বকাঝকা করে শিশুকে পড়ানো সম্ভব না রাগ জেদ দুটোই বাড়ে। আমি আপনাদের জন্য সহজ বাচ্চাদের পড়াশোনার মনোযোগী করার ১০ টি উপায়ে দিলাম।

 সূচিপত্রঃ বাচ্চাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার টোটকা

বাচ্চাদের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করুন 

 বাচ্চাদের পড়াশোনার মনোযোগী করার টোটকা জানার আগে। আমাদের শিশুদের  লাইফে রুটিন তৈরি খুব দরকার। আপনি চাইলে আপনার বাচ্চাকে সব সময় পড়াতে পারবেন না আপনার বাচ্চা স্কুল থেকে আসার পরে একটু খেলার সময় দেন। এবং আপনি বোঝার চেষ্টা করুন যে আপনার বাচ্চা কোন সময় খেলতে চায় আবার কোন সময় পড়তে চায় ।

আপনার বাচ্চা কোন সময় পড়তে মনোযোগী হচ্ছে এই টাইমটি আপনি সেট করে রাখতে পারেন। আবার কোন সময় খেলাধুলা করতেছে এই টাইমটুকু আপনি সেট করে রাখতে পারেন। যে সময় সে লেখাপড়া করতে চাচ্ছে বা মনোযোগী হচ্ছে ওই সময় যদি আপনি তাকে পড়াতে পারেন তাহলে সে মনোযোগ দিয়েই লেখাপড়া করবে । এভাবে ১০ থেকে ১৫ দিন পড়াতে থাকেন 

 পড়ার পরিবেশ করুন শান্ত ও মনোযোগী

বাচ্চাদেরকে পড়াশুনার মনোযোগী করার সবথেকে প্রয়োজন হল তার পরিবেশ। আপনি যদি একটা নির্দিষ্ট সুন্দর মনোযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনার বাচ্চা পড়ার প্রতি মনোযোগী হবে। আর যদি আপনার বাচ্চার সামনে টিভি, মোবাইল, গান বাজনা ইত্যাদি। এইসব জিনিস থাকলে আপনার বাচ্চা পরার অমনোযোগী হবে

আপনি যদি আপনার শিশুকে পড়ার মনোযোগী পরিবেশ করতে চান। তার টেবিলে শুধু বই খাতা এবং পেন্সিল লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রই ছাড়া খেলার জিনিসপত্র সব সরে রাখবেন। নিরিবিলি পরিবেশে বাচ্চাদের পড়ার আগ্রহ বাড়ে এবং মনোযোগী হয়। চাইলে আপনার বাচ্চা যেখানে লেখাপড়া করে ওই রুমটি সুন্দর আর্টিকেল এবং সুন্দর চিত্র দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারে। আপনি মনে রাখবেন শান্ত পরিবেশ পড়ার জন্য সুন্দর ফলাফল নিয়ে আসবে 

শিশুদের পছন্দর বিষয় দিয়ে শুরু করুন

প্রতিটি শিশুরই আলাদা পছন্দ আছে এটা থাকবেই এটাই স্বাভাবিক। আপনাকে শুধু দেখতে হবে আপনার বাচ্চাটি কোন জিনিসটি বেশি পছন্দ করতেছে যে জিনিসটি বেশি পছন্দ করতেছে ওই বিষয় দিয়েই তার মনোযোগ টা ধরে রাখতে হবে। যদি মনে করেন আপনার বাচ্চাটি ছবি আঁকাতে খুবই পছন্দ করে তাহলে ছবি আঁকাতে যেসব জিনিস লাগে তাকে কিনে দিন ধীরে ধীরে শুরু করুন।

তার পছন্দের বিষয় পড়া দিয়ে শুরু করার পর ধীরে ধীরে অন্য বিষয়ের দিকে মন নিয়ে যান। যেমন ইংলিশ পড়ান গণিত করান এবং তাকে প্রশ্ন করুন। আপনি যদি তার বই কিনতে যান তাকে নিয়ে যান তার পছন্দমত বই কিনুন সে যেন এটি তার খেলনার বিষয় ভাবতে পারে । এতে তার মানসিক চাপ কম হবে সে শুরুতেই সহজ ভাবে সব বিষয়ে শুরু করবেন

বাচ্চাদের ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন

আপনার বাচ্চাকে পড়াশোনার মনোযোগী করার উপযোগী টোটকা হল। ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন আপনার বাচ্চার জন্য ছোট থেকেই বেশি চাপ না দেওয়াই ভালো তাকে ছোট থেকেই ধীরে ধীরে ছোট ছোট প্রজেক্ট দিয়ে শুরু করুন। যেমন মনে করুন তুমি এই অংকটি শেষ করতে পেলে একটা আইসক্রিম খাওয়াবো দেখবেন সে খুশি মনে মনোযোগ দিয়ে অংক ঠিক করে দিবে।

আপনি যদি চান আপনার বাচ্চাটি পড়াশোনা মনোযোগী হোক। তাহলে তার ছোট্ট কাজ করা প্রশংসা করবেন। আপনি যদি তার ছোট ছোট কাজে পুরষ্কার দেন বা প্রশংসা করেন সে ক্ষেত্রে বাচ্চারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। এবং এই পুরস্কারের আশায় সে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে। দেখবেন ছোট ছোট অভ্যাস গুলোই একদিন অনেক বড় অভ্যাসে পরিণত হবে।

পুরস্কার ও প্রশংসার ব্যবস্থা রাখুন

পুরস্কার ও প্রশংসা কার না ভালো লাগে। আর যদি এটা আমাদের বাচ্চাদেরকে দেই এবং বাচ্চাদের কোন ছোট্ট একটি কাজে আমরা যদি তাকে প্রশংসা করি সে কত খুশি হয় বা হ্যাপি হয় বা তার মনের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় আপনার কল্পনার বাহিরে। আর যদি থাকে একটা পুরস্কার তার ভালো কাজের জন্য তাহলে সে আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার সব কাজে আপনার সব কথাতেই মনোযোগ দিবেন। 
বাচ্চাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার টোটকা
আপনি চেষ্টা করবেন আপনার বাচ্চার  একটি লেখাকে বা ছবি আঁকাকে বা অংক অক্ষর চিনতে ইত্যাদি। সব কাজেই তার প্রশংসা করবেন এবং আপনি একটা তার ছোট্ট কাজের জন্য পুরস্কার রাখবেন তার মনোযোগ বাড়ানোর জন্য। যেমন তুমি অনেক ভালো পড়তেছো। অনেক ভালো অংক করতেছো। এই কথাগুলো বাচ্চার মনের আত্মবিশ্বাস তৈরি করে

আরো পড়ুনঃ মেয়েদের ঘরে বসে প্যাসিভ ইনকাম

আপনার প্রত্যেকটা পুরস্কার শুধু জিনিসই হবে বা খেলার জিনিসই হবে এমনটা না। যেমন আপনার ছেলেকে নিয়ে আপনি একটা রেস্টুরেন্ট এ যায় খাচ্ছেন । তার সাথে সময় কাটাচ্ছেন তার সাথে আইসক্রিম খাচ্ছেন। প্রতিদিন তার জন্য একটা শার্ট তৈরি করুন যেন সে কত পেলে তার জন্য পুরস্কার থাকবে তাহলে বাচ্চারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ার মনোযোগী হয়।

মোবাইল টিভির বদলে বইয়ের প্রতি মনোযোগ বাড়ান

আজকাল প্রতিটি বাসাতে একই সমস্যা বাচ্চাদের মোবাইল টিভি  দেখার এই কারণে বাচ্চা পড়ার প্রতি অমনোযোগী। বাচ্চাদের অতিরিক্ত মোবাইল বা টিভি দেখার কারণে তাদের চোখেরও সমস্যা হয়। যদি আমরা চাই আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনার মনোযোগী করতে পারি। আমাদেরকে সবার আগে মোবাইল বাচ্চাদের সামনে চালানো বন্ধ করতে হবে ।

বাচ্চারা যা দেখে তাই শিখে আমরা যদি বাচ্চাদের সামনে বই গল্পের বই কার্টুনের বই রাখি তাহলে বাচ্চারা পড়ার প্রতি মনোযোগী হয়। বাচ্চাদের সাথে আমাদেরও টিভি মোবাইল চালানো কমিয়ে আনা দরকার। আপনার বাসার নির্দিষ্ট একটা টাইম টিভি মোবাইল বন্ধ রাখুন। মনে রাখবেন অভ্যাস পরিবর্তন হতে সময় লাগে তাই ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যান ।

বাচ্চাদের পড়ার মাঝে ছোট বিরতি দিন

আপনাদের বাচ্চাদেরকে দীর্ঘ সময় পড়ানোর জন্য চাপ দিবেন না। এতে আপনার বাচ্চার মস্তিতে চাপ সহ্য করতে পারে না আপনারা চেষ্টা করবেন ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর তার একটা বিরতি দেওয়ার জন্য। এই বিরতিতে আপনি বাচ্চার সাথে খেলাধুলা করেন তার সাথে কৌতুক করেন তাকে হাসানোর চেষ্টা করেন এতে আপনার বাচ্চার মন আরো ভালো হয় পড়ার প্রতি মনোযোগী হয়।

একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন এই সময় যেন আপনার বাচ্চা কোনভাবেই মোবাইল বা টিভির দিকে আসক্ত না হয়। তাহলে আপনার বাচ্চার লেখাপড়ার মনোযোগ টি হারিয়ে যেতে পারে আপনি চেষ্টা করবেন সব সময় আপনার সাথে গল্প বা মজা করে তার বিরতি সমায় কাটে যাই। নিয়মিত বিরতিতে বাচ্চাকে দীর্ঘ সময় পড়াতে সাহায্য করে মানসিক চাপ ও কমায়।

বাচ্চাদেরকে গল্প ও উদাহরণ দিয়ে শিখান

বাচ্চাদেরকে গল্প বললে বাচ্চারা অনেক খুশি হয় এবং বাচ্চারা গল্প অনেক পছন্দ করে। আপনি এই গল্পর ছলেও আপনার বাচ্চাকে আপনি লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী করতে পারেন যেমন অংক হিসাবে ও আপনি আপনার বাচ্চাকে লেখাপড়ার করাতে পারেন যেমন আপনার বাচ্চাকে বলুন তোমার কাছে।৫ টি কলম আছে তুমি তোমার ৩ বন্ধুকে তিনটি কলম দিয়ে দিলে তোমার কাছে থাকে কয়টা কলম। এই ছোট ছোট গল্প স্লো আপনার বাচ্চাকে আপনি লেখাপড়ার মনোযোগী করতে পারেন

আপনার বাচ্চার সামনে ইতিহাস ভূগোল এসব বিষয়ে দেশ এবং দেশের বাহিরের গল্প বীরপুরুষের কাহিনী এসব বলুন । এবং আপনার কোন ভবন করার অভিজ্ঞতা থাকলে আপনি তার সাথে একটি শেয়ার করুন এতে আপনার বাচ্চার কাল্পনিকশক্তি জাগিয়ে তোলে এবং শেখায় সহজ করে।

নিজেরা পড়ুন বাচ্চাকে পড়াতে উৎসাহিত করুন

বাচ্চাদের পড়াশোনার মনোযোগী করার সেরা টোটকা হচ্ছে বাচ্চার সাথে আপনারাও পড়াশোনা করুন। বাচ্চারা যা দেখে তাই শিখে তাই যদি আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের সামনেই লেখাপড়া করেন তাহলে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং আপনার বাচ্চাকে পড়াতে উৎসাহিত করুন। বাচ্চারা যা দেখে তাই কপি করতে চাই সেজন্য বাচ্চার সামনে আপনিও সময় করে একটু পড়াশোনা করুন।

আপনি মাঝে মাঝে বাচ্চার সামনে নতুন বই নিয়ে আসবেন এবং এটি পড়বেন। এতে আপনার বাচ্চা নতুন বইয়ের প্রতি মনোযোগী হবে এবং আগ্রহ বাড়বে। এবং তার সাথে বইয়ের গল্প শেয়ার করবেন এবং তাকে ধীরে ধীরে প্রশ্ন করবেন এক্ষেত্রে তার প্রশ্ন উত্তর দেওয়ার মন মানসিকতা তৈরি হবে । ধীরে ধীরে উৎসাহিত করুন এবং প্রশংসা করুন একদিন ঠিকই আপনার বাচ্চা পড়ার প্রতি মনোযোগী হবে।

 বাচ্চাদের নিয়মিত ঘুম, খাবার, ব্যায়াম  করাতে হবে

বাচ্চাদের জন্য নিয়মিত ঘুম খাবার ব্যায়াম রুটিন করা সব থেকে জরুরী। বাচ্চার যদি ঘুম কম হয় তাহলে তার কোন কাজে ফোকাস করতে সমস্যা হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠলে হালকা নাস্তা সাথে এক গ্লাস দুধ ডিম খাওয়ান এতে বাচ্চা শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করবে এবং সরল শক্তি বৃদ্ধি করবে। দিনে তিনবার পুষ্টিকর খাবার নিয়ম তৈরি করুন

প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট পর্যন্ত খেলাধুলার সময় দিন এতে শরীর ও মন ভালো হয়। বাচ্চাকে যখন আপনারা ব্যায়াম করাবেন তখন খেলার মাধ্যমে ব্যায়াম করান এতে সে ব্যায়াম করতে আগ্রহী হয়। এবং আপনার বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণ পানি খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন । রাতে অন্তত দুই ঘন্টা ঘুমানোর আগে বাচ্চাকে খাওয়া অভ্যাস তৈরি করুন।

পাঠকেরঃশেষ কথা

 আপনার বাচ্চাদের কে নিয়ে পড়াশোনার অমনোযোগী হওয়ার কারণে টেনশন করবেন না। আপনার বাচ্চাকে আপনি গড়াতে পারবেন আপনি ভাঙতে পারবেন এবং আপনার বাচ্চাকে আপনিই ভাল বুঝবেন কেউ আপনার বাচ্চাকে ভালো বুঝবে না আপনার থেকে।

আমি আমার আর্টিকেলে বাচ্চাদের পড়ানোর মনোযোগি কিভাবে হবে তার কিছু ধারনা তুলে ধরেছি। আশা করি আপনি এই গাইডলাইন গুলো মেনে কাজ করলে আপনার বাচ্চা পড়ার প্রতি মনোযোগী হতে পারে।

আমার প্রিয় বন্ধুদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। যদি আপনাদের কারো এই আর্টিকেলটি উপকারে আসে তাহলে আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন সব সময় ওয়ান ক্লিকের সাথে থাকতে সাবস্ক্রাইব করুন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ওয়ান ক্লিকই নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url