নবীজির দাম্পত্য নির্দেশনা । দাম্পত্য জীবনে সুখ ও বরকত আনার ১০টি উপায়
বাচ্চাদের পড়াশোনা মনোযোগী করানোর টোটকা
নবীজির দাম্পত্য নির্দেশনা থেকে শিখে নিন, দাম্পত্য জীবনে সুখ ও বরকত আনার সহজ উপায়। আমাদের দাম্পত্য জীবনে যদি একবার অশান্তি শুরু হয় এ অশান্তি থেকে বের হওয়ার জন্য আমরা কত রকম চেষ্টা করি।
দাম্পত্য জীবন শুধু স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক নয় এটি ভালোবাসা,দয়া,ধৈর্য,দায়িত্ব সম্মান,ইত্যাদি এবং আল্লাহর আনুগত্যের একটি সুন্দর পথ। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় হিসেবে দেখেছে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি কীভাবে একটি দাম্পত্য জীবনের সুখ বরকত নার ১০টি উপায়।
পেজ সূচিপত্রঃদাম্পত্য জীবনে সুখ ও বরকত আনার ১০টি উপায়
- দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে দেখুন
- একে অপরের প্রতি ভালো ব্যবহার করুন
- প্রশংসা করতে শিখুন
- ঘরের কাজে সহযোগিতা করুন
- মুখ দিয়ে খারাপ কথা ও রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন
- একে অপরের ভুল ক্ষমা করুন
- টাকার হিসাব গোপন করবেন না
- একসাথে দোয়া ও ইবাদত করুন
- সন্তানদের সামনে ভালো আচরণ করুন
- সব সময় আল্লাহর সাহায্য চান
- দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে মানবেন
- সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
- পাঠকের শেষ কথা
দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে দেখুন
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে তারা একে অপরের কাছে শান্তি পায়। এই শিক্ষা আমাদের বলে, দাম্পত্য জীবনকে বোঝা না ভেবে আল্লাহর দান হিসেবে দেখা উচিত। আমরা অনেকেই আছি মনে করি দাম্পত্য জীবন কেন শুরু করলাম দাম্পত্য জীবন শুরু না করাই ভালো ছিল এই ধারণাটা ভুল।
নবীজির দাম্পত্য জীবনের অন্যতম শিক্ষা হলো, পরিবারে শান্তি ও ভালোবাসা বজায় রাখা। তাই প্রতিদিনের জীবনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা খুব জরুরি। ছোট ছোট স্ত্রীর ভালো কাজকেও গুরুত্ব দিলে সংসারে বরকত বাড়ে। যখন আমরা প্রিয় রাসূলুল্লাহ (সা.) এর দাম্পত্য নির্দেশনা মানবনা তখন আমরা আল্লাহর নিয়ামত থেকে অনেক দূরে যাবো এইজন্য দাম্পত্য জীবনকে নিয়ামত ভাবুন।(সূরা রূম ৩০:২১।)
একে অপরের প্রতি ভালো ব্যবহার করুন
নবীজি (সা.) বলেছেন তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। এই হাদিস দাম্পত্য জীবনের মূলনীতি স্পষ্ট করে দেয়। ভালো ব্যবহার মানে শুধু বড় কাজ নয়, একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ভালোবাসা সম্মান করা,সুন্দর ব্যবহার করা,নরম ভাবে কথা বলা, আপনার স্ত্রীর প্রতি রাগ না করে তার উপরে একটু নরম হন।
স্বামী যদি স্ত্রীকে ভালোভাবে কথা বলে, আর স্ত্রী যদি স্বামীকে সম্মান করে, তাহলে সংসার শান্ত থাকবে কিভাবে শুধু স্বামী নয় স্ত্রীকেও এই দায়িত্ব নিতে হবে স্ত্রীকেও স্বামীর সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। দাম্পত্য জীবনে ভদ্র আচরণ অনেক বড় সম্পদ। প্রিয় রাসূল (সা.) বলেছেন যে আপনার স্ত্রীকে সাথে যেন গোলামের মত ব্যবহার করো না কারণ দিনশেষে তার কাছেই আসতে হবে।(সহীহ বুখারী ৫২৬৮।)
প্রশংসা করতে শিখুন
মানুষ প্রশংসা পছন্দ করে। স্ত্রী বা স্বামীর ছোট কোনো ভালো কাজকেও যদি প্রশংসা করা হয়, তাহলে সে আরও উৎসাহ পায়। নিজ স্ত্রীর প্রশংসা করা ইসলামে করতে বলেছে প্রিয় নবীজি (সা.) তাঁর স্ত্রীদের ভালো দিকগুলো স্মরণ করতেন এবং সম্মান দিতেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছে।
নারীদের মধ্যে দুইজন পূর্ণতা অর্জন করেছে। একজন হল ফেরাউনের বউ আছিয়া। আরেক জন ইমরানের কন্যা মারইয়াম ছাড়া কেউ অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।আজকের সংসারে অনেক সময় ভালো কাজের চেয়ে অভিযোগ বেশি শোনা যায়। কিন্তু প্রশংসা সম্পর্ককে নরম করে। তাই ধন্যবাদ ভালো হয়েছে তুমি চেষ্টা করেছ এমন কথা সংসারে ভালো প্রভাব ফেলে।(সহীহ বুখারী ৩৮১৮।)
ঘরের কাজে সহযোগিতা করুন
প্রিয় নবীজি (সা.) ঘরের কাজে সহযোগিতা করতেন। এটা দাম্পত্য জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কাজ ভাগ করে নিলে চাপ কমে, আর একে অপরের প্রতি ভালোবাসা বাড়ে। আমাদে প্রিয় রাসুল (সা.)বাহিরের সব কাজ শেষ করে এসে যখন দেখতেন হযরত আয়েশা (রা.) রান্নাঘরে রান্না করতে ছিলেন তখন আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) রান্নার সহযোগিতা করতেন।
যখন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ঘরের কাজে সহযোগিতা করেছেন সেই জন্য আমাদেরও করা সুন্নত। সব সময়ই আমরা মনে করে, ঘরের কাজ শুধু একজনের দায়িত্ব। কিন্তু ইসলামে আছে যে সংসারের দাম্পত্য জীবনে দুজন দুজনকে সহযোগিতা করে সেই সংসারে আল্লাহ তায়ালা বরকত ও সুখ দুটোই দেন।(সহীহ বুখারী ৬৭৬।)
মুখ দিয়ে খারাপ কথা ও রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন
দাম্পত্য জীবনে রাগ বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। রাগের। রাগের মাথায় আপনি এমন একটি কথা বলে ফেললেন যে কথাটি সারা জীবনের আফসোসের কারণ হয়ে যায়। তাই রাগের সময় শান্ত থাকা খুব জরুরি। আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) সব সময় নরম আচরণ নরম ব্যবহারকে অনেক পছন্দ করতেন। রাগ হলে কথা না বলে চুপচাপ থাকুন।
আপনি রাগের মাথায় যে কোন প্রশ্নের উত্তর দিবেন এই উত্তর কোনদিনই ঠিক হবে না।। তাই আপনার মাথা যখন ঠান্ডা হবে তখন কথা বলুন সম্পর্ক ঠিক থাকবে। একে অপরের প্রতি খারাপ কথা না বলা হুট করে মাথা গরম না করা। আপনারা যদি একে অপরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে কথা বলা দাম্পত্য জীবনের সবথেকে বড় গুণ এবং সুখ ও বরকত আসে।(সূরা ফুসসিলাত ৪১৩৪।)
একে অপরের ভুল ক্ষমা করুন
কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। দাম্পত্য জীবনে ভুল হতেই পারে। কিন্তু সেই ভুল ধরে বসে থাকলে সম্পর্ক দুর্বল হয়। আল্লাহ সুবহানু তায়ালা ক্ষমা করতে পছন্দ করেন এবং ক্ষমাশীল মানুষদেরকেও আল্লাহ পছন্দ করেন। নবীজির চরিত্র ছিল ক্ষমাশীলতা ও কোমলতার মাধ্যমে ভরপুর। এই শিক্ষা দাম্পত্য জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো ভুল নিয়ে রাগ, অভিমান বা প্রতিশোধের মনোভাব পোষণ করলে সম্পর্ক নষ্ট হয় এবং হৃদয়ে অশান্তি জন্মায়। কিন্তু আন্তরিকভাবে ক্ষমা করতে পারলে ভালোবাসা, সম্মান ও বিশ্বাস সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়।ক্ষমা করা মানে ভুলকে মেনে নেওয়া নয়, বরং সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখা। স্বামী-স্ত্রী যদি একে অপরের ছোট ভুল ক্ষমা করতে পারে, তাহলে সংসারে শান্তি থাকে। ক্ষমা দাম্পত্য জীবনের এক শক্তিশালী গুণ।(সহীহ বুখারী ৩৫৬০।)
টাকার হিসাব গোপন করবেন না
দাম্পত্য জীবনে টাকার হিসাব রাখা খুব জরুরি। আপনার ইনকাম থেকে আয়, ব্যয়, সঞ্চয়, এবং প্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে মধ্যে খোলামেলা আলোচনা থাকা উচিত। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে। সংসারে সুখ ও বরকত আসেঅনেক সংসারে টাকা নিয়ে লুকোচুরি সমস্যা তৈরি করে। ইসলাম পরিবার পরিচালনায় দায়িত্ব ও স্বচ্ছতার শিক্ষা দেয়। তাই আর্থিক পরিকল্পনা করে চললে সংসার স্থিতিশীল থাকে এবং দুশ্চিন্তা কমে। (সূরা তালাক ৬৫৭।)
একসাথে দোয়া ও ইবাদত করুন
একসাথে আল্লাহকে স্মরণ করা সংসারে বরকত আনে। স্বামী স্ত্রী যদি একসাথে দোয়া করে,নামাজ পড়ে কোরআন তিলাওয়াত করে তাহলে হৃদয়ের সম্পর্কও মজবুত হয়। আল্লাহর এবাদতের জন্য সময় বের করে কোরআন তেলাওয়াত করা জিকির করা এবং নফল এবাদত করা এই কাজগুলো দাম্পত্য জীবনে একসাথে করলে আল্লাহর রহমত ও বরকত আসে।
দাম্পত্য জীবনে যদি আপনারা সুখে থাকেন তাহলে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করা উচিত। আর যদি দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বা বিপদ আসে সে ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত। আল্লাহকে স্মরণ করলে মনের মধ্যে একটা শান্তি অনুভব করা যায়। এজন্য দাম্পত্য জীবনে সময় করে আল্লাহর এবাদত করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত এতে দুনিয়া আখেরাত দুটিতেই লাভ। (সূরা বাকারা ২১৫২।)
সন্তানদের সামনে ভালো আচরণ করুন
সন্তানরা বাবা মার কথা না যতটুক শোনে তার থেকে বেশি বাবা-মায়ের আচরণ ব্যবহারিক তারা শিখে বেশি। তাই দাম্পত্য জীবনে আচরণ যত সুন্দর হবে, সন্তানদের চরিত্রও তত সুন্দর হবে। নিজের জীবনকে কোরআন সুন্নাহ দিয়ে তৈরি করা। কারণ ইসলামে পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পরিবার ছিল আদর্শ পরিবারের একটি বাস্তব উদাহরণ। একটা নেককার সন্তান মানুষ করা শুধু পারিবারিক দায়িত্ব না এটা একটা এবাদত। শিশুদের সামনে ভালো ব্যবহার, সম্মান, এবং ধৈর্য দেখানো খুব জরুরি। সন্তানদের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি করাও দাম্পত্য জীবনের একটি অংশ।(সূরা তাহরীম ৬৬৬।)
সব সময় আল্লাহর সাহায্য চান
দাম্পত্য জীবনে সমস্যা এলে হতাশ হওয়া ঠিক নয়। বরং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। এই বিশ্বাস সংসারে ধৈর্য আনতে সাহায্য করে। আমাদের সৃষ্টিকর্তা কোন সময় কাউকে খালি হাতে ফেরায় না এই জন্য আপনি নিরাশ না হয়ে আপনি সবসময় আল্লাহর কাছে চাইবেন।
দাম্পত্য জীবনে যখন সমস্যা খুব বেশি মনে হয়, তখন সৎ পরামর্শ, দোয়া, এবং ধৈর্য কাজে আসে। ইসলাম আমাদের শেখায়, সমস্যাকে লুকিয়ে না রেখে শান্তভাবে সমাধান করতে। আল্লাহর সাহায্যই আসল ভরসা। দাম্পত্য জীবনে অনেক সমস্যার মুখামুখি হতে হয় দুইজনকেই সৎ নিয়তে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান তাহলে আল্লাহ আপনাদের দাম্পত্য জীবনে রহমত বরকত সুখ দিবে ইনশাল্লাহ।(সূরা ইনশিরাহ ৯৮৬৫।)
দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে মানবেন
দাম্পত্য জীবন সুন্দর করতে বড় পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। তবে ছোট ছোট অভ্যাস খুব কাজে দেয়। যেমন:
- সালাম দিয়ে কথা শুরু করা।
- ধন্যবাদ বলা।
- রাগের সময় চুপ থাকা।
- একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
- সপ্তাহে কিছু সময় একসাথে কাটানো।
- এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত করলে সংসারে শান্তি বাড়ে।
সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
- ছোট বিষয় নিয়ে বড় ঝগড়া করা।
- একে অপরকে অবহেলা করা।
- রাগের মাথায় খারাপ কথা বলা।
- আর্থিক বিষয় গোপন রাখা।
- ক্ষমা না করা।
পাঠকের শেষ কথা
নবীজির দাম্পত্য নির্দেশনা আমাদের শেখায়, সুখী সংসার গড়তে অনেক জটিলতার দরকার নেই। দরকার শুধু ভালো আচরণ, সম্মান, ধৈর্য, ক্ষমা, আর আল্লাহর সাহায্য । যদি স্বামী স্ত্রী এই শিক্ষাগুলো অনুসরণ করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ দাম্পত্য জীবন হবে শান্তিময়, সুন্দর, এবং বরকতময়।
ইসলামিক আলো থেকে বাস্তব জীবন থেকে আমাদের প্রিয় রাসুল(সা.)দাম্পত্য নির্দেশনা থেকে আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করেছি। যদি আমার এই আর্টিকেলটি আপনার দাম্পত্য জীবনে কিছু প্রভাব ফেলে বা কোন উপকারে আসে তাহলে আপনাদের বন্ধুর সাথে শেয়ার করবেন
আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ প্রিয় বন্ধুরা আমার এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য এবং আমার
সাথে থাকার জন্য। সবাই ভালো থাকবেন ওয়ান ক্লিকের সাথেই থাকবেন।

ওয়ান ক্লিকই নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url