মনের কুচিন্তা দূর করার ১০টি ইসলামিক উপায়
মনের কুচিন্তা দূর করার জন্য ইসলামিক উপায়ে জানুন সহজ ভাষায়। আমরা যখন বেশিভাগ
নামাজে দাঁড়াই নামাজ পড়ার জন্য তখনই এই কুচিন্তা বেশিভাগ আসে। ইসলামে আমাদেরকে
এমন কিছু সুন্দর আমল শিখিয়েছে যেগুলো নিয়মিত করলে কুচিন্তা দূর হবে।
মনের কুচিন্তা দূর করার জন্য একদিন একটা মানুষ এসেছিল আমাদের প্রিয় নবী হযরত
মুহাম্মদ(সা.) এর কাছে। মানুষটি আমাদের নবীজিকে বলতেছে যে আমার মনের মধ্যে এমন
পরিমাণ কুচিন্তা আসে যে মুখে বলার চেয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়াই ভালো। সেই সময়
আমাদের নবীজি হযরত মুহাম্মদ(সা.) বলেন যে এইটি তোমার ঈমানের পরিচয়। মনের
কুচিন্তা দূর করার জন্য ইসলামিক সহজ ১০টি উপায
পেজ সূচিপত্রঃমনের কুচিন্তা দূর করার ১০টি ইসলামিক উপায়
আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা
মনের মধ্যে কুচিন্তা আসার মূল কারণ হলো আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি না।আমরা আল্লাহকে
স্মরণ না করার কারণে আমাদের এই মনের মধ্যে দুশ্চিন্তা সবসময় হতাশা লেগেই থাকে।
আল্লাহকে স্মরণ করা তার এবাদত করা এটাই একটি মুসলমানের কাজ হওয়ার কথা। যদি আপনি
সত্যিই মন থেকে আল্লাহর কাছে কিছু চান তাহলে আল্লাহ খালি হাতে ফিরাবে না।
আমাদের সংসার জীবনে বাহিরের চাকরির জীবনে অনেক সমস্যা লেগেই থাকে। সারাদিনের
কাজকর্মে আমরা অনেক টেনশন মানসিক চাপ সহ্য করি। নিয়মিত যদি আল্লাহর কাছে আমরা
বেশি বেশি দোয়া করি আমাদের মনের খারাপ চিন্তা এবং মানসিক চাপ দুটোই কমে যাবে এবং
আল্লাহকে বিশ্বাস করতে হবে বিশ্বাসী জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
নিয়মিত নামাজ আদায় করা
মুসলমান হিসাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সবার জন্য ফরজ। আমরা অধিকাংশ নামাজ
আদায় করতে চাই না নামাজ আদায় করার সময় আমাদের মনের মধ্যে যত কুচিন্তা চলে আসে।
আবার নামাজ আদায়ের অনেকেই মাঝে এই গরী মুন্সী ভাব দেখা যায়।অথচ যারা নামাজ
পড়েন তাদের জেনে রাখা উচিত নামাজ শুধু আল্লাহর শান্তি থেকে রক্ষা করে না বরং
দুনিয়া ও আখেরাত মানুষের জীবন সহজ করে দেয়।
এবং মানুষের মানসিক চাপ কমিয়ে দেয যে ব্যক্তি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়
করে। ওই ব্যক্তির কোন সময় হতাশা মানসিক দুশ্চিন্তা আসেনা কারণ আল্লাহর একটা রহমত
থাকে তার উপরে এজন্য আমাদেরকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা আল্লাহর
শুকরিয়া করা উচিত।
বেশি বেশি জিকির করা
পবিত্র কোরআনে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করতে বলা হয়েছে তা অন্য কোন এবাদত
সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়নি আল্লাহর জিকির মানুষকে সব ধরনের গুনাহ থেকে রক্ষা করে
এবং মানসিক দুশ্চিন্তা ও চিন্তা থেকে রক্ষা করে এই জন্য আমরা প্রতিনিয়ত যে
জিকিরগুলো করব তার একটি লিস্ট দিলাম।
সুবহানাল্লাহ
এর অর্থঃ আল্লাহ পবিত্র ও মহান।
আলহামদুলিল্লাহ
এর অর্থঃ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আল্লাহু আকবার
এর অর্থঃ আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
এর অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
এর অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি
এর অর্থঃ আল্লাহ পবিত্র, এবং সব প্রশংসা তাঁরই।
সুবহানাল্লাহিল আজিম
এর অর্থঃ মহান আল্লাহ পবিত্র।
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল
এর অর্থঃ আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম অভিভাবক।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়া।
কুরআন তিলাওয়াত করা
কোরআন কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নাযিল হয়নি। কোরআন প্রত্যেকটি মুসলমানদের
জন্য নাযিল হয়েছে কোরআন সবার জন্য পড়া ফরজ। আমরা যত আল্লাহর এবাদত কোরআন পড়বো
আমাদের মন মানসিক দুশ্চিন্তা থাকবে না। শয়তান মানব জীবনের প্রধান সূত্র। কোরআন
তেলাওয়াত করলে হৃদয়কে প্রশান্ত করে
বিশেষ করে সূরা ইখলাস, ফালাক ,ও নাস পরা উপকারী প্রতিদিন কিছু
আয়াত হলেও পড়া অভ্যাস গড়ে তুলুন।কোরআন তিলাওয়াত অন্তরের অস্থিরতা কমায় এবং
মনকে শান্ত করে । দুশ্চিন্তা, ভয় বা মানসিক চাপের সময় কিছু আয়াত পড়লে
অন্তরে স্বস্তি অনুভব হয়।কোরআন শুধু পড়ার বই নয়, এটি জীবনের পথনির্দেশ ।
নিয়মিত তিলাওয়াত মানুষকে ভুল থেকে ফিরিয়ে আনে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে
সাহায্য করে।
আল্লাহর উপর ভরসা রাখা
আল্লাহর উপর ভরসা রাখা মানে হলো সব কাজের শেষে ফলাফল তাঁর কাছেই সোপর্দ করা।
মানুষ চেষ্টা করবে কিন্তু মনে রাখবে সফলতা ও সিদ্ধান্তের মূল মালিক আল্লাহ। যখন
আমরা পুরো ভরসা আল্লাহর ওপর রাখি তখন বুকের ভয় কমে এবং মন শান্ত হয়। আল্লহর
ওপেরে ভরসা করলে দুশ্চিন্তা, কুচিন্তা ও অস্থিরতা কমে যায়।
কারণ তখন মানুষ জানে যে আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তাতেই কল্যাণ আছে।
এই বিশ্বাস অন্তরে দৃঢ় হলে জীবনের কঠিন পরিস্থিতিও সহজ লাগে।তাই প্রতিদিন
কাজের আগে ও পরে আল্লাহর ওপর ভরসা করার অভ্যাস করুন। দোয়া করুন চেষ্টা করুন,
তারপর ফলকে আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন। এভাবেই হৃদয়ে প্রশান্তি আসে এবং কুচিন্তা
দূর হয়।
ইস্তিগফার করা
ইস্তিগফার করা মানে আল্লাহর কাছে নিজের ভুল ত্রুটি ও গুনাহের জন্য ক্ষমা
চাওয়া। যখন মানুষ বেশি বেশি ইস্তিগফার করে তখন তার অন্তর নরম হয় এবং মন হালকা
অনুভব করে।ইস্তিগফার কেবল গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়, এটি দুশ্চিন্তা ও মানসিক
অস্থিরতা কমানোরও একটি সুন্দর আমল। আস্তাগফিরুল্লাহ বারবার পড়লে হৃদয়ে শান্তি
আসে এবং আল্লাহর রহমতের আশা জাগে।
তাই প্রতিদিন নিয়েম করে সকাল সন্ধ্যায়, কাজের ফাঁকে এবং নামাজের পরে ইস্তিগফার
করার অভ্যাস করুন। আল্লহর কাচে যত বেশি ক্ষমা চাইবেন, তত বেশি আল্লাহর
নিকটবর্তী হবেন এবং কুচিন্তা কমে যাবে। জীবনে যেকোনো সমস্যা বা কঠিন পরিস্থিতির
মুখোমুখি হলে ইস্তেগফার বেশি বেশি পড়া সবচেয়ে উত্তম আমল। আল্লাহ তাআলা আমাদের
সবাইকে ক্ষমা করুক সবার দুশ্চিন্তা মানুষের চিন্তা দূর করুক আমিন।
ধৈর্য ধরে থাকা
ধৈর্য ধারণ করা একজন মুমিনের বড় গুন। জীবনের সুখ যেমন আসে তেমনি কষ্ট আসে
কষ্টের সময় আমরা হতাশ হয়ে যাই হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরতে পারাটাই ঈমানের শক্তি।
আল্লাহতালা ধৈর্যশীল মানুষকে পছন্দ করে তাই বিপদে পরীক্ষায় দুশ্চিন্তায় কোন
চিন্তায় ধৈর্য ধারণ করাটাই ভালো ধৈর্য মানুষকে ভেঙ্গে পড়া থেকে বাঁচায়
ধৈর্য ধরে মনের কোন চিন্তা দূর করে অন্তরে শান্তি আনে। যে ব্যক্তি ধৈর্য
ধরে সে সহজে হতাশ হয় না ধৈর্য্য মানে চুপ থাকা নয় বরং আল্লাহর উপর আস্থা রেখে
সঠিক পথে কষ্টের সময় নামাজ দোয়া জিকির লেগে থাকা এভাবেই ধৈর্য ধরলে হৃদয়
শান্তি আসে আমরা সবাই চেষ্টা করব ধৈর্য ধরে থাকার জন্য এবং আল্লাহর উপর ভরসা
রাখার জন্য।
সদকা করা
সাদকা করা ইসলামের পরিভাষায় দান করাকেই সাদকা বলা হয়। একমাত্র আল্লাহ
তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার লক্ষ্যে আমরা এই সাদগা করে থাকি সাদকা করা ইসলাম
একটি সুন্দর বরকতময় আমল মানুষের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের একটি বড় পরিচয় সাদকা
দিলে শুধু অন্যের উপকার হয় না নিজের মন প্রশান্ত হয় এবং কোন চিন্তা ও মানসিক
ভার কমাতে সাহায্য।
করে সাদকা বিপদ দূর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ।এটি আল্লাহর রহমত
পাওয়ার সুন্দর পথ যা করলে হৃদয়ে শান্তি নেমে আসে দুঃখ কষ্টের সময় মানুষ আশা
হারায় না আমাদের আশেপাশে অনেক গরীব মানুষ অভাবী মানুষ আছে সামর্থ্য অনুযায়ী
সাদকা দেওয়া উচিত। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন যদি তোমরা প্রকাশ্যে দানশাদা কর তবে
তা কতই না উত্তম আর যদি গোপনে ফকির মিসকিনদেরকে দান করো তবে আরও বেশি উত্তম আর।
ভালো মানুষের সঙ্গ রাখা
দুনিয়ার জীবনে আমরা কত মানুষের সাথে চলাফেরা করি আমরা কোন সময় ভালো মানুষের
সাথে চলাফেরা করতে জানিনা। যারা আল্লাহ ভীরু মানুষ তাদেরকে আমরা অধিকাংশ মানুষ
পছন্দ করি না আমরা সবসময় দুনিয়াকে নিয়ে খারাপ কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকি এজন্য
আমাদের মনে সব সময় খুব চিন্তা ঘুরপাক খায়।
ভালো মানুষের সঙ্গ রাখা মনের শান্তির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যার সঙ্গে চলাফেরা
করি তার প্রভাব আমাদের চিন্তা ও আচরণ করে ভালো মানুষ আল্লাহকে মনে করিয়ে দেয়।
তার কোন চিন্তা গুনা ও ভুল পথে যাওয়া থেকে বাচাই সৎ বন্ধু মানুষকে নামাজ দোয়া
জিকির তাদের আচার-আচরণ দেখো কিছু শিখা যায় ।তাই এমন মানুষের সঙ্গ নেওয়া উচিত
যারা আল্লাহ ভীরু ভালো সঙ্গ জীবনের পথকে সহজ ও সুন্দর করে দুনিয়া ও
আখেরাতে।
দরুদ শরিফ বেশি পড়া
দরুদ শরীফ বেশি পড়া একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আমরা নানান রকম বিপদে পড়ি
টেনশনে থাকি সাংসারিক জীবনে এবং বাহিরের জীবনী আমরা যদি প্রতিনিয়তই দরুদ শরীফ
দুঃখ হতাশা ও মানসিক চাপে অনেকটা কমিয়ে দেয় দুরুদ শরীফ মনকে শান্ত করে এবং
ভালো চিন্তা জায়গায়। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই
সালাম এর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করার মাধ্যম হলো দরুদ পাঠ করা ।
যত বেশি দরুদ পড়া হয় তত বেশি অন্তরে নরম হয়। দরুদ বান্দাকে বান্দার মনকে
আল্লাহর রাসূলের স্মরণে রাখে এতে গুনাহ মাফের আশা বৃদ্ধি পায় দুঃখ হতাশাও মানসিক
চাপের সময় দরুদ খুব উপকারীকে শান্ত করে দেয় ভালো চিন্তা জাগায় প্রতিদিন সকাল
সন্ধ্যা দূর করার অভ্যাস করা উচিত অল্প হলেও নিয়মিত দরুদ পড়ায় ফজিলত এর কাজ ।
ছোট্ট আমল তালিকা
ফজরের পর ১০০ বার ইস্তিগফার।
প্রতিদিন সকালে ও রাতে আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক, নাস।
কুচিন্তা এলে ৩ বার: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান।
অন্তত ৫ মিনিট নীরবে জিকির।
রাতে ঘুমের আগে নিজের দুশ্চিন্তাগুলো আল্লাহর কাছে বলে দোয়া।
পাঠকের শেষ কথা
মনের কুচিন্তা,দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা জীবনের অংশ হলেও এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা
সম্ভব আল্লাহর সাহায্যে। নামাজ, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ইস্তিগফার,
ধৈর্য, সদকা, ভালো মানুষের সঙ্গ, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং দরুদ শরিফএই আমল গুলো
নিয়মিত পালন করলে অন্তর প্রশান্ত হয়। তাই জীবনের কঠিন সময়ে হতাশ না হয়ে
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন। কারণ একমাত্র তাঁর স্মরণেই হৃদয় শান্তি পায়।
আমরা প্রিয় বন্ধুদের জন্য মনের কোন চিন্তা দুশ্চিন্তা থেকে দূর করার ইসলামিক
উপায়ে কিছু বলার চেষ্টা করেছি এই আর্টিকেলে আমার এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কোন
উপকারে আসে বা যদি পছন্দ হয় আপনার প্রিয় বন্ধুদের সাথে এই আর্টিকেলটি শেয়ার
করবেন আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ পড়ার জন্য এবং আমার সাথে থাকার জন্য সব সময়
ওয়ান ক্লিকের সাথেই থাকবেন।যঠফযতফ

ওয়ান ক্লিকই নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url